সমুদ্রের এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যেখানে পুরুষই সন্তান ধারণ করে। সিহর্স, পাইপফিশ ও সি ড্রাগনের বিস্ময়কর জগৎ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন Satkahon-এ।
![]() |
| সিহর্স ও তার সমগোত্রীয় প্রাণীদের মধ্যে পুরুষ সদস্যই সন্তান ধারণ করে। |
সন্তান জন্ম দেয় বাবা! সিহর্স থেকে সি ড্রাগন, সমুদ্রের বিস্ময়কর প্রাণীদের অজানা গল্প
সমুদ্রের গভীরে এমন এক রহস্যময় জগৎ লুকিয়ে রয়েছে, যেখানে প্রকৃতির চেনা নিয়ম যেন সম্পূর্ণ বদলে যায়। সেখানে সন্তান ধারণ করে পুরুষ, জন্ম দেয় বাবারাই। সিহর্স, পাইপফিশ ও সি ড্রাগনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা বিজ্ঞানীদের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়। প্রকৃতির এই অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব ঘটনা শুধু কৌতূহলই বাড়ায় না, বরং জীবজগতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের ধারণাকেও নতুন করে ভাবতে শেখায়। Satkahon-এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এল সমুদ্রের সেই অবাক করা জীবনের গল্প।
সমুদ্রের নিচে এক উল্টো পৃথিবী, যেখানে বাবারাই ‘মা’
আমরা সাধারণত জানি, সন্তান ধারণ ও জন্ম দেওয়ার দায়িত্ব প্রকৃতিতে নারীদের। কিন্তু পৃথিবীর সমুদ্রের গভীরে এমন এক রহস্যময় জগৎ রয়েছে, যেখানে এই চিরচেনা নিয়ম সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে পুরুষ প্রাণীরাই গর্ভধারণ করে, সন্তানকে নিজের শরীরে বড় করে তোলে, এমনকি প্রসব যন্ত্রণাও সহ্য করে।
এই বিস্ময়কর প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম সিহর্স। ছোট্ট, কোমল দেখতে এই সামুদ্রিক প্রাণীটি প্রকৃতির অন্যতম অদ্ভুত জীববৈজ্ঞানিক রহস্য বহন করে। স্ত্রী সিহর্স নিজের ডিম পুরুষ সিহর্সের শরীরের বিশেষ থলির মধ্যে রেখে দেয়। তারপর শুরু হয় বাবার ‘গর্ভকাল’। সেই থলির ভেতরেই ডিম নিষিক্ত হয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে ছোট ছোট বাচ্চা। নির্দিষ্ট সময় পরে পুরুষ সিহর্স নিজের শরীর থেকেই তাদের জন্ম দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, একবারে কয়েকশো থেকে হাজারের কাছাকাছি বাচ্চাও জন্ম দিতে পারে একটি পুরুষ সিহর্স।
তবে শুধু সিহর্স নয়, এই আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে পাইপফিশ এবং সি ড্রাগনের মধ্যেও। এরা সবাই ‘সিনগনাথিডি’ পরিবারের সদস্য। পাইপফিশের ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্য শরীরের নিচের অংশে ডিম বহন করে। আর সি ড্রাগনের ক্ষেত্রে ডিমগুলো লেজের নিচে বিশেষ অংশে আটকে থাকে। সমুদ্রের তলদেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় বাবারাই সেই ডিমগুলিকে রক্ষা করে চলে।
![]() |
| পাইপফিশ |
প্রকৃতির এই অদ্ভুত বিবর্তনের পিছনেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। গবেষকদের মতে, যখন পুরুষ সদস্য সন্তান ধারণ করে, তখন স্ত্রী প্রাণীটি দ্রুত আবার নতুন ডিম তৈরির জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ফলে খুব অল্প সময়ে প্রজাতির সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়। অর্থাৎ এটি শুধুই অদ্ভুত নয়, বরং টিকে থাকার এক কার্যকর কৌশল।
Satkahon-এর পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রাণিজগতের এই উদাহরণ আমাদের শেখায় যে প্রকৃতি কখনও একরৈখিক নয়। মানুষের সামাজিক ধারণা বা পরিচিত নিয়মের বাইরে জীববৈচিত্র্যের জগৎ কতটা বিস্ময়কর হতে পারে, সিহর্সরা যেন তার জীবন্ত প্রমাণ।
সমুদ্রের নীল অন্ধকারে ভেসে বেড়ানো এই ছোট্ট প্রাণীগুলো শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বিষয় নয়, তারা আমাদের শেখায় মাতৃত্ব বা পিতৃত্ব কেবল শরীরের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির কাছে সব নিয়মই পরিবর্তনশীল।

.jpg)